গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা

আপনি কি, গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। গরুর দুধ আমাদের সকলেরই চেনা একটি খাবার। অনেকেই মনে করেন, গরুর দুধ মানেই উপকার। কিন্তু, গরুর দুধের যেমন ভালো দিক রয়েছে, ঠিক তেমনি খারাপ দিকও রয়েছে। 

গরুর-দুধের-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

গরুর দুধ পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণও হতে পারে। বিশেষ করে, যারা প্রতিদিন গরুর দুধ খেয়ে থাকেন, তাদের জন্য এই উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরী। এই পোস্টে গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা

গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা

গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী। গরুর দুধ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচিত একটি খাবার। অনেকেই সকাল বেলা এক গ্লাস দুধ দিয়ে দিনটি শুরু করেন। দুধ শুধুমাত্র খেতেই সুস্বাদু নয়, এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পুষ্টির উপাদান। তবে, সব খাবারের মতো এটিও সবার জন্য সমান উপকারী নয়। কারো জন্য হতে পারে উপকারী, আবার কারো জন্য হতে পারে সমস্যার কারণ। চলুন প্রথমে, "গরুর দুধের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক"- গরুর দুধে রয়েছে, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, রাইবোফ্ল্যাভিন এবং আরো প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ উপাদান। 

এই উপাদান গুলো শরীরের হাড় শক্ত করে, দাঁতের যত্নে সাহায্য করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।শিশুদের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং বয়স্কদের হাড়ের দুর্বলতা দূর করতে গরুর দুধ খুবই উপকারী। গরুর দুধে রয়েছে- প্রোটিন, যা শরীর গঠন এবং পেশী শক্ত করতে সাহায্য করে। অনেক সময় গরুর দুধ খাওয়ার পর মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। কারণ, এতে রয়েছে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান, যা ঘুম পূরণ করতে সহায়তা করে। তাছাড়াও, গরুর দুধ পেট ঠান্ডা রাখতে ও হজম করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে, হালকা গরম গরুর দুধ খেলে। 

এবার চলুন, "গরুর দুধের অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক"- কিছু কিছু মানুষ গরুর দুধ হজম করতে পারেন না, যাকে বলা হয়- ল্যাকটোজ ইটলারেন্স। এর ফলে, পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া এবং বমি হতে পারে। আবার যাদের গরুর দুধে এলার্জি রয়েছে, তাদের জন্য এটি একেবারেই নিরাপদ নয়। গরু দুধ অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হলে, দ্রুত ওজন বেড়ে যেতে পারে এবং চর্বির পরিমাণ বেড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অনেক সময় বাজারের গরুর দুধে ভেজাল এবং কেমিক্যাল মেশানো থাকে। যার ফলে, শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ সকালে কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে

সবশেষে বলা যায়- গরুর দুধ অনেক উপকারী হলেও, সবার জন্য সমান উপকার হয় না। কারো শরীরে উপযোগী হলে, গরুর দুধে উপকার পাওয়া যায়। আবার কারো শরীরে উপযোগী না হলে, গরুর দুধ তার জন্য উপকারের বিপরীতে ক্ষতি হতে পারে। গরুর দুধের যেমন অনেক পুষ্টিগুণ এবং উপকার রয়েছে, ঠিক তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এবং কিছু কিছু ব্যক্তির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই, নিজে বুঝে এবং শরীরের ক্ষমতা বুঝে সঠিকভাবে গরুর দুধ খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো। 

গরুর দুধে কি কি পুষ্টিগুণ থাকে

আমরা শুধুমাত্র গরুর দুধকে দুধ বলেই জানি। কিন্তু, এর ভেতরে আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণের উপাদান। এক গ্লাস গরুর দুধে যা থাকে, তা আমাদের শরীরের অনেক চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে। প্রথমে বলা যায়, "ক্যালসিয়ামের" কথা। গরুর দুধে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। যা শরীরের হাড় ও দাঁত শক্ত করতে দারুণ কাজ করে। বিশেষ করে, বাচ্চাদের দ্রুত বৃদ্ধিতে এবং বয়স্কদের হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি কমাতে ক্যালসিয়াম খুব দরকার। এরপরে রয়েছে "প্রোটিন"। গরুর দুধে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। যা শরীরের কোষ গঠনে, পেশী তৈরিতে এবং শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

গরুর-দুধের-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

যারা নিয়মিত কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন, তাদের জন্য প্রোটিন অনেক দরকারি। এরপরে রয়েছে "ভিটামিন ডি"। যা শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। সূর্যের আলো না পেলে, দুধ খেয়ে "ভিটামিন ডি" এর অভাব পূরণ করা যায়। যা হাড় ভালো রাখতে সাহায্য করে। এরপরে রয়েছে "ভিটামিন বি-১২"। যা রক্ত তৈরিতে এবং স্নায়ু ঠিক রাখতে সাহায্য করে।পাশাপাশি দেহের শক্তি উৎপাদনের কাজে অনেক সহায়তা করে। এছাড়াও গরুর দুধে রয়েছে-ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অল্প পরিমাণে ভিটামিন এ। যেগুলো শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সঠিকভাবে চলাচল করতে সাহায্য করে। 

গরুর দুধ খেলে কি ওজন বাড়ে

অনেকেই ভেবে থাকেন, গরুর দুধ খেলে ওজন বেড়ে যায়। আবার কেউ কেউ গরুর দুধ ডায়েটের অংশ হিসেবে রাখেন।আসলে, প্রশ্নটা হচ্ছে- গরুর দুধ খেলে কি ওজন বাড়ে? এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে, আপনি কতটুকু পরিমাণে গরুর দুধ খাচ্ছেন, দুধের ধরন কেমন এবং আপনার শরীরের চাহিদা কেমন এই সমস্ত বিষয়ের উপর। গরুর দুধে রয়েছে-চর্বি, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি। যদি আপনি প্রতিদিন পরিমাণের থেকে বেশি দুধ পান করেন, ফুল-ক্রিম অথবা গারো দুধ খেয়ে থাকেন এবং শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ না করেন। তাহলে, সেটা অতিরিক্ত ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে। 

আবার যারা শারীরিক পরিশ্রম করেন এবং ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য গরুর দুধ খাওয়া অনেক উপকারী হতে পারে।গরুর দুধে থাকা প্রোটিন, শরীরের শক্তি গঠনে সাহায্য করে। তবে, ওজন বেড়ে যাবে এই ভয়ে গরুর দুধ খাওয়া, বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। আপনি চাইলে, অল্প পরিমাণে এবং পাতলা দুধ খেতে পারেন, যাতে ক্যালরি ও চর্বি কম থাকে। এতে করে, আপনি পুষ্টিও পাবেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করতেও পারবেন। সবশেষে বলা যায়, গরুর দুধে কি ওজন বাড়ে? এটি নির্ভর করে- কিভাবে খাচ্ছেন, অতিরিক্ত পরিমাণে খাচ্ছেন কিনা এবং আপনার শরীরের চাহিদা কতটুকু এই সমস্ত বিষয়ের উপর। 

গরুর দুধে কাদের এলার্জির সমস্যা হয়

গরুর দুধ অনেকের জন্য উপকারী হলেও, কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিছু কিছু মানুষের শরীরে গরুর দুধ খাওয়ার পর, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এই ধরনের সমস্যাকে সাধারণভাবে দুধের এলার্জি বলা হয়। এটি সাধারণত শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বয়স্কদের মাঝেও এই সমস্যা দেখা যায়। গরুর দুধে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। যেমন- ক্যাসেইন এবং হুই প্রোটিন। অনেকের শরীরে এই প্রোটিন গুলো ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, সবার শরীরের ক্ষমতা এক নয়। তখন, শরীরে এলার্জির লক্ষণ দেখা যায়।

গরুর দুধে এলার্জি হলে, যেসব লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে। সেগুলো হলো- চুলকানি, ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি, হাঁচি-কাশি, চোখ থেকে পানি পড়া, পেট ব্যথা, বমি অথবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা। শিশুদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।যাদের পরিবারে আগে থেকেই গরুর দুধে এলার্জির সমস্যা রয়েছে। যেমন- মা বাবার এজমা, ত্বকের সমস্যা অথবা খাবারে এলার্জি। সাধারণত তাদের বাচ্চাদের গরুর দুধে এলার্জির ঝুঁকি বেশি থাকে। আবার যেসব শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা গরুর দুধ সহজে হজম করতে পারে না। ফলে, এলার্জির মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এলার্জির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা শুধুমাত্র গরুর দুধেই নয়। গরুর দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, যেমন- দই, পনির, ঘি এই সমস্ত খাবার খেলেও এলার্জির সমস্যা দেখা দেয়। তাই, এই সমস্যা গুলো থাকলে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে তা জেনে নেওয়া দরকার। সবশেষে বলা যায়, সব গরুর দুধে এই ধরনের সমস্যা গুলো তৈরি হয় না। কিছু কিছু গরুর দুধের ধরনের কারণে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে, কারো শরীরে যদি গরুর দুধ সহ্য না হয়, তাহলে সেটি এলার্জির লক্ষণ হতে পারে। 

গরুর দুধ খাওয়া সঠিক সময় কখন

গরুর দুধ খাওয়া অনেক উপকারী, তবে কখন খাচ্ছেন সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গরুর দুধ খাওয়ার সময় ঠিক না হলে, অনেক সময় উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। সাধারণত, গরুর দুধ খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে রাতের বেলা। কারণ, গরুর দুধে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ঘুম পূরণ করতে অনেক সাহায্য করে। বিশেষ করে, অনেকেই ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভুগেন। তখন যদি হালকা গরম দুধ খাওয়া যায়। তাহলে, মনটা শান্ত হবে এবং ঘুম ভালো হবে।তাছাড়াও, রাতের বেলা শরীর বিশ্রামে থাকে, তখন গরুর দুধের পুষ্টি সহজে শরীরে শোষিত হয়।

সকালবেলা খালি পেটে দুধ খাওয়া অনেকের জন্য ভালো নয়। এতে অনেক সময় পেটে গ্যাস অথবা অসস্তির কারণ হতে পারে। তবে দুধের সঙ্গে যদি কিছু খাওয়া হয়, যেমন- রুটি, কলা অথবা অন্যান্য খাবার, তাহলে সেটি সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সকালে খাবারের অংশ হিসেবে হালকা দুধ খাওয়া ভালো। বিশেষ করে, বাচ্চাদের জন্য এটি উপকারী। তবে যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের দুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবশেষে বলা যায়, নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে এবং নিয়ম মেনে বড় দুধ খাওয়া উচিত। তাহলে, গরুর দুধ সবচেয়ে বেশি উপকারে আসবে।

গরুর কাঁচা দুধ পান করা কি নিরাপদ

অনেকেই ভেবে থাকেন, গরুর কাঁচা দুধ পান করা বেশি পুষ্টিকর। কেউ কেউ আবার গরম না করে কাঁচা গরুর দুধ পান করে থাকেন। কারণ, এতে নাকি নাকি প্রাকৃতিক পুষ্টি নষ্ট হয় না। কিন্তু, সব সময় গরুর কাঁচা দুধ পান করা নিরাপদ নয়।গরুর কাঁচা দুধে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু থাকতে পারে, যা খালি চোখে দেখা যায় না কিন্তু শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন- সালমোনেলা, ই-কোলাই, ব্রুসেল্লা এবং লিস্টেরিয়া এই জীবানা গুলো কাঁচা দুধে থাকলে- পেটব্যথা, জ্বর, বমি অথবা ডায়রিয়া হতে পারে।

বিশেষ করে- শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক মানুষ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এই সমস্ত মানুষদের জন্য কাঁচা দুধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, তাদের শরীরে সহজেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারবে। অনেকেই বলে থাকেন, কাঁচা দুধ পান করলে বেশি কষ্ট পাওয়া যাবে। সত্যি কথা বলতে, তাপ দিয়ে ফুটিয়ে নিলে সামান্য পরিমাণ ভিটামিন নষ্ট হয়। কিন্তু, দুধ ফুটিয়ে খেলে জীবাণু মুক্ত হবে এবং দুধ অনেক নিরাপদ হবে। তাই, দুধ অবশ্যই ফুটিয়ে হালকা গরম করে খাওয়া উচিত।এতে পুষ্টিগুণ যেমন থাকবে, তেমনই রোগের ভয়ও কমবে। সবশেষে বলা যায়, গরুর কাঁচা দুধ না খেয়ে হালকা করে গরম করে খাওয়াই ভালো হবে। 

গরুর দুধ শিশুদের জন্য ভালো না খারাপ

শিশুদের খাবার নিয়ে অভিভাবকদের ভাবনা অনেক। অনেক মা-বাবায় গরুর দুধ শিশুকে খাওয়াতে চান। কারণ, তারা মনে করেন এতে অনেক পুষ্টি রয়েছে। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে- গরুর দুধ শিশুদের জন্য ভালো না খারাপ? প্রথমেই বলতে হয়- ৬ মাসের নিচে শিশুদের জন্য গরুর দুধ একেবারেই উপযুক্ত নয়।এই বয়সে মায়ের দুধ সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর। গরুর দুধে বেশ কিছু উপাদান রয়েছে। যেমন- প্রোটিন ও মিনারেল। যা ছোট শিশুর কিডনিতে ঠিকমতো হজম করতে পারে না। এতে শিশুর পেট খারাপ হয়, রক্তে আয়রনের ঘাটতি দেখা যায় এবং এলার্জি হতে পারে।

১ বছরের পরে ধীরে ধীরে শিশুদের গরুর দুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে, নিয়ম মেনে খাওয়াতে হবে। শুরুতে অল্প করে, হালকা গরম দুধ দিয়ে শুরু করাই ভালো। শিশু যদি ভালোভাবে সহ্য করতে পারে, তাহলে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। গরুর দুধে রয়েছে- ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ। যার ফলে, একটু বড় শিশুদের জন্য গরুর দুধ উপকারী। তাই বলা যায়,  এক বছরের নিচে শিশুর বয়স হলে গরুর দুধ খাওয়ানো উপযুক্ত নয়। এক বছরের পর চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে খাওয়ানো যেতে পারে। 

গরুর দুধ কি প্রতিদিন খাওয়া উচিত

প্রতিদিন আমরা যেসব খাবার খাই, তার মধ্যে গরুর দুধ অনেক জনপ্রিয় পুষ্টিকর একটি খাবার। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন করেন-গরুর দুধ প্রতিদিন খাওয়া কি উচিত? প্রথমেই বলা যায়, গরুর দুধে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২ এবং মিনারেল। যা শরীরের হাড়, দাঁত, পেশি এবং রক্তের জন্য খুবই উপকার। তাই যারা গরুর দুধ সহ্য করতে পারেন, তাদের জন্য প্রতিদিন এক গ্লাস গরুর দুধ খাওয়া উচিত। শিশু থেকে বয়স্ক সকলের জন্যই গরুর দুধ খাওয়া খুবই উপকার। তবে, অবশ্যই পরিমাণমতো গরুর দুধ খেতে হবে।

গরুর-দুধের-উপকারিতা-ও-অপকারিতা

বড়দের জন্য প্রতিদিন ১-২ গ্লাস খাওয়াই যথেষ্ট। যাদের দুধ খেলে হালকা পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা করা এবং গ্যাস করা এ ধরনের সমস্যা হয়। তারা হালকা গরম করে অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে পারেন। তবে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুধ উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে যায়। এমন হলে, তাদের জন্য প্রতিদিন দুধ খাওয়া উচিত নয়। আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে- প্রতিদিন কাঁচা দুধ না খেয়ে, হালকা গরম করে ফুটিয়ে খাওয়ায় উচিত। এতে করে, দুধে থাকা জীবাণুগুলো নষ্ট হবে এবং দুধ সহজে হজম হবে। 

গরুর দুধ এবং প্যাকেট দুধ কোনটা ভালো

আমাদের দেশে দুধ মানেই সর্বপ্রথম গরুর দুধের কথাই মাথায় আসে। আবার কেউ কেউ দোকান থেকে প্যাকেট দুধ কিনে খেয়ে থাকেন। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে- গরুর দুধ এবং প্যাকেট দুধ কোনটা ভালো? প্রাকৃতিকভাবে গরুর দুধ সরাসরি পাওয়া গেলে সেটাই বেশি পুষ্টিকর এবং খাঁটি। এতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন সহ নানা পুষ্টিগুণ উপাদান রয়েছে। যদি গরুর দুধ ভালো ভাবে ফুটিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে এটি অনেক উপকারে আসে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। যেমন- দুধ যদি ভালোভাবে ফুটানো না হয়, তাহলে জীবাণু থেকে সংক্রামন হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ দ্রুত হজম শক্তি বাড়ানোর কার্যকর উপায়

অন্যদিকে প্যাকেট দুধ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। মানে, এটি পস্তুরাইজ করে জীবাণু নষ্ট করা হয় এবং নিরাপদ করা হয়। অনেক সময় এতে অতিরিক্ত পানি, সংরক্ষণকারী অথবা ভিটামিনের যোগ করা হয়। এতে করে এটি সহজে হজম হয় এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু, সব কোম্পানি খাঁটি দুধ দেয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভেজালের আশঙ্কা থাকে। তবে, যারা শহরে থাকেন তাদের জন্য গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া অনেক কঠিন। কিন্তু, এই সমস্যায় বিশ্বস্ত কোনো কোম্পানির প্যাকেট দুধ বিকল্প হিসেবে ভালো হতে পারে। সঠিকভাবে সংগ্রহ এবং প্রস্তুত করলে, গরুর দুধ বেশি পুষ্টিকর। আর যদি নিশ্চিত না হন, তাহলে বিশ্বস্ত কোম্পানির প্যাকেট দুধ ভালো।

গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা-শেষ কথা

এই পোস্টে গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। গরুর দুধ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। এতে প্রাকৃতিকভাবে অনেক পুষ্টিগুণ উপাদান রয়েছে। যা শরীরের হাড় মজবুত করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং শিশু থেকে বয়স্ক সব মানুষের জন্য উপকারী। তবে, প্রতিটি জিনিসের মধ্যে ভালো-মন্দ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দুধ খাঁটি ও জীবাণুমুক্ত না হলে, শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, যারা দুধ হজম করতে পারেন না বা এলার্জির সমস্যা রয়েছে।

আবার অতিরিক্ত দুধ খাওয়ার ফলে শরীরে চর্বি বেড়ে যেতে পারে। একটা কথা মাথায় রাখতে হবে-  অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। সবশেষে বলা যায়- গরুর দুধ বুঝে-শুনে খাওয়া উচিত। খাঁটি দুধ হলে, ভালোভাবে ফুটিয়ে এবং নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে খেতে পারলে, অনেক উপকার পাওয়া যাবে। গরুর দুধ খাওয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে, ঠিক তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণও রয়েছে। তাই, সচেতন ভাবে খেতে হবে এবং নিজের শরীরের মাপ বুঝে খেতে হবে। 250455

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

mtwahid নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url